উষা দাশ পুরকায়স্থ

Posted by রেজওয়ান on 4:45 PM

“পাকিস্তানি এক বাঙ্কারে সাতান্ন জন নারীর লাশ দেখেছি। পাকিস্তানিদের বর্বরতার এ দৃশ্য আমাকে আজো কষ্ট দেয়”। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে উষা দাশ পুরকায়স্থের ভেতর থেকে উঠে আসা কষ্টের উচ্চারণগুলো এরকম। এক সাগর রক্ত আর বেদনার গর্ভ থেকে জš§ আমাদের এই দেশের। অনেক চড়াই-উতড়াই আর পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে আমরা পৃথিবীর মানচিত্রে আমাদের ঠাঁই করে নিয়েছি। একদিকে পাকিস্তানি হানাদারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অন্যদিকে এদেশীয় রাজাকার-আল-বদরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ। এই যুদ্ধাপরাধী ও মানবতা বিরোধী অপরাধের অপরাধীদের হাতে সেদিন নির্যাতিতা হয়েছিলো অনেক নারী। আবার প্রতিরোধও গড়ে তুলেছিলেন অনেকে। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতার মাধ্যমে স্বাধীনতার পথকে যাঁরা সুগম করেছেন উষা দাশ পুরকায়স্থ তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ১৯২৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটের এক নিভৃত পল্লীতে জšে§ছিলেন উষা দাশ। ছেলেবেলা থেকেই ছিলেন ডানপিটে। দিনেশচন্দ দাশগুপ্ত ছিলেন তাঁর বাবা। মা ¯েœহপ্রভা দাশগুপ্তাকে হারান সেই শৈশবেই। সিলেটের লেডিন গার্লস স্কুলের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় তিনি ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। পরে মামা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মেজর জেনারেল সি আর দত্তের সংস্পর্শে এসে আরো বেশি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। উষা দাশের শ্বশুরালয়ের সবাই ছিলেন কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তাঁর অবদান ছিলো উল্লেখযোগ্য। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতার জন্য তিনি নিজ বাড়ির জিনিসপত্রও তাঁদের দিয়ে দিতেন। নেপথ্যে থেকেই উষা দাশ শিখিয়েছেন বৈরী পরিবেশের মধ্যেও আমাদের ঐক্য আর মনোবল যদি অটুট থাকে তবে কোনো রাহু আর আমাদের স্বপ্নকে গ্রাস করতে পারবে না।