জগৎজ্যোতি দাস
জগৎজ্যোতি অর্থাৎ পৃথিবীর আলো। আলো হয়ে ঠিকই জ্বলেছিলেন হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জের জলসুখা গ্রামের জগৎজ্যোতি দাস। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার নেতৃত্বে দাসপার্টি মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ায় পাক হানাদারদের কাছে। জগৎজ্যোতির মুখোমুখি হওয়া মানে হানাদারদের একটি পরাজয়ের গল্প। উত্তর-পূর্ব রণাঙ্গনে মুক্তি সেনাদের কাছে প্রেরণার রসদ হয়ে উঠেন তিনি। মৃত্যুর সময়ও তিনি রেখে যান সেই প্রেরণার উৎস। ১৯৪৯ সালের ২৬ এপ্রিল হবিগঞ্জের আজিমিরিগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রামে জগৎজ্যোতির জন্ম। জীতেন্দ্র চন্দ্র দাস ও হরিমতি দাসের ছোট ছেলে জগৎজ্যোতি দাস। বাবা ছিলেন রাজমিস্ত্রি। জন্মের পর থেকে অভাবের সঙ্গেই জগৎজ্যোতির বসবাস তার। ১৯৬৮ সালে দ্বিতীয় বিভাগে এসএসসি পাস করেন তিনি। উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। এক পর্যায়ে চাকরি ছেড়ে কিছুদিন কৃষ্ণ গোবিন্দ পাবলিক হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জগৎজ্যোতি ছিলেন সুনামগঞ্জ ছাত্র ইউনিয়নের প্রথম সারির কর্মী। তিনি একাধিক ভাষায় দক্ষ ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে তার ওপর দায়িত্ব পড়ে টেকেরঘাট সাব-সেক্টরের অধীনে বিস্তীর্ণ ভাটি অঞ্চল শত্রুমুক্ত রাখার। দিরাই, শাল্লা, ছাতক, আজমিরিগঞ্জ, বানিয়াচং, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার নৌপথ পাক হায়েনাদের দখলমুক্ত রাখার যুদ্ধে নামে জগৎজ্যোতির 'দাসপার্টি'। ভাটির জনপদে শত্রুদের ভিত কাঁপিয়ে দেয় জগৎজ্যোতির এই দাসপার্টি। দাসপার্টির মুহুর্মুহু আক্রমণে দিশাহারা পাকিস্তান সরকার রেডিওতে ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়, 'এই রুট দিয়ে চলাচলকারীদের জানমালের দায়িত্ব সরকার নেবে না'। মাত্র ১৩ জন সহযোদ্ধা নিয়ে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে পাকবাহিনীর প্রায় ২৫০ সৈন্যের একটি দলকে পর্যুদস্তু করেন তারা। এমনি আরও অনেক বিজয়ের গল্পের স্রষ্টা জগৎজ্যোতি। মাত্র ১০/১২ জন সহযোদ্ধা নিয়ে শ্রীপুর শত্রুমুক্ত করেন জগৎজ্যোতি। তার নেতৃত্বে দাসপার্টি ভেড়ামাড়ায় শত্রুদের কার্গো কনভয় ধ্বংস করে দেয়। ১৬ নভেম্বর ৪২ সদস্য নিয়ে নৌকাযোগে বাহুবল অভিযানে যাচ্ছিলেন জগৎজ্যোতি। পথে বদলপুর নামক স্থানে অজান্তেই রাজাকার ও হানাদারদের পাতা ফাঁদে পা দেন তিনি। ওইদিন প্রবল যুদ্ধ করে নিহত হন জগৎজ্যোতি। বিবস্ত্র করে তার লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয় ভেড়ামোহনা নদীতে।
জগৎজ্যোতির মৃত্যু সংবাদ ওই সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, অল ইন্ডিয়া রেডিওসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। তার অসীম সাহসিকতার প্রতি সম্মান জানিয়ে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার তাকেই প্রথম মরণোত্তর 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাব ঘোষণা করেন। ১৯৭২ সালে তাকে পুনরায় বীরবিক্রম খেতাব প্রদান করা হয় তাকে। কিন্তু ঘোষণা দিয়েও কেন জগৎজ্যোতিকে মরণোত্তর সর্বোচ্চ খেতাব 'বীরশ্রেষ্ঠ'র সম্মানে ভূষিত করা হলো না_ সে প্রশ্ন আজো রয়ে গেছে।
শাহ্ দিদার আলম, সিলেট
জগৎজ্যোতির মৃত্যু সংবাদ ওই সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, অল ইন্ডিয়া রেডিওসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। তার অসীম সাহসিকতার প্রতি সম্মান জানিয়ে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার তাকেই প্রথম মরণোত্তর 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাব ঘোষণা করেন। ১৯৭২ সালে তাকে পুনরায় বীরবিক্রম খেতাব প্রদান করা হয় তাকে। কিন্তু ঘোষণা দিয়েও কেন জগৎজ্যোতিকে মরণোত্তর সর্বোচ্চ খেতাব 'বীরশ্রেষ্ঠ'র সম্মানে ভূষিত করা হলো না_ সে প্রশ্ন আজো রয়ে গেছে।
শাহ্ দিদার আলম, সিলেট

0 Responses to "জগৎজ্যোতি দাস"
Leave A Comment :